আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের ইউরেনিয়াম প্রকল্প। এবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের মজুতকৃত ইউরেনিয়াম সম্পূর্ণরূপে অপসারণ না করা পর্যন্ত এই যুদ্ধ শেষ হবে না।
গতকাল মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের ওয়াশিংটন বিষয়ক শীর্ষ প্রতিনিধি মেজর গ্যারেটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এ কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় চলমান এই যুদ্ধ থেকে আমরা ইতোমধ্যে অনেক কিছু অর্জন করেছি। বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চললেও, যুদ্ধ কিন্তু শেষ হয়নি। যতদিন ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ না করা হবে, ততদিন এই সংঘাত চলবে। এটি অপসারণ করতেই হবে।”
জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ বিষয়ক সংস্থা আইএইএ-এর তথ্যমতে, ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের বড় একটি মজুত রয়েছে। এই বিশুদ্ধতার মান যদি ৯০ শতাংশে উন্নীত করা যায়, তবে তা দিয়ে সহজেই একের পর এক পারমাণবিক বোমা তৈরি সম্ভব। এই আশঙ্কায় গত বছরের জুনে ইরানের ইউরেনিয়াম হস্তগত করতে দেশটিতে ১২ দিনের সামরিক অভিযান চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সে সময় ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হলেও ইউরেনিয়ামের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক দফা সংলাপ হলেও তা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি ফের ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রায় ৪০ দিন যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়। স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে গত ১১ এপ্রিল দুই দেশের প্রতিনিধিরা টানা ২১ ঘণ্টা বৈঠক করলেও কোনো চুক্তি ছাড়াই তা ব্যর্থ হয়।
ইরানের পরমাণু অপসারণে কোনো বলপ্রয়োগ করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু সামরিক পরিকল্পনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে সিএনবিসিকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “ইরান তাদের গোপন স্থাপনাগুলোতে এখনও ইউরেনিয়াম বিশুদ্ধকরণ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের সক্ষমতা হয়তো হ্রাস পেয়েছে, তবে একেবারে শেষ হয়ে যায়নি।”
নেতানিয়াহু আরও উল্লেখ করেন, যদি ইরানের সঙ্গে কোনো কার্যকর চুক্তি হয়, তবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত উপায়ে সেখানে গিয়ে ইউরেনিয়াম নিয়ে আসা যেতে পারে। যুদ্ধ কবে শেষ হবে তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা (টাইম-টেবিল) নেই উল্লেখ করে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, এই যুদ্ধ বন্ধের মূল চাবিকাঠি হলো ইউরেনিয়াম ইস্যুর সমাধান।
বাংলাফ্লো/এফআইআর



