আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাছে শোচনীয় পরাজয়ের পর অভাবনীয় এক রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। পরাজয় মেনে নিয়ে প্রথা অনুযায়ী পদত্যাগ করার পরিবর্তে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পদে বহাল থাকার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। বুধবার (৬ মে) দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “তারা আমাকে বরখাস্ত করুক। আমি চাই আজকের দিনটি কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হোক। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে হোক।”
তৃণমূল নেত্রী মমতার এই অনড় অবস্থানের ফলে রাজ্য প্রশাসনে এক গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আইন অনুযায়ী, বিধানসভার আস্থা না থাকলে কোনো মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকতে পারেন না। যেহেতু বিজেপি নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, তাই রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস যে কোনো সময় বিজেপিকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন। এমতাবস্থায় মমতা সরে না দাঁড়ালে রাজ্যপাল তাঁকে বরখাস্ত করতে পারেন অথবা রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ করতে পারেন।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে থাকা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী মমতার এই মনোভাবকে গণতন্ত্রের পরিপন্থী বলে আখ্যা দিয়েছেন। রাজ্যে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ তুলে মমতা যে সরব হয়েছেন, তা নাকচ করে শুভেন্দু বলেন, “এখন পর্যন্ত যে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো ঘটেছে, তা ২০২১ সালের তুলনায় অনেক কম। বিজেপি সরকার গঠন করে দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।” উল্লেখ্য, গতকালই শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারীকে গুলি করে হত্যার ঘটনা রাজ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
হারের ধাক্কা সামলাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের ভেতর শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। প্রকাশ্যে দলের সমালোচনা করা নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি একটি ‘ডিসিপ্লিনারি কমিটি’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া পরাজয়ের জন্য সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করে তিনি রাজপথে লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে নতুন বিধানসভার প্রথম দিনটিকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
মমতার এই নজিরবিহীন পদক্ষেপে দিল্লির রাজনীতিও সরগরম। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের সন্তুষ্টির ভিত্তিতে পদে থাকেন। যেহেতু নতুন নির্বাচনে তৃণমূল সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে, তাই মমতার পদে থাকার কোনো নৈতিক বা আইনি ভিত্তি নেই। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের কাছে মমতাকে বরখাস্ত করার আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






