আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সংশোধিত নতুন একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। গত বৃহস্পতিবার মার্কিনিদের হাতে প্রস্তাবটি পৌঁছে দেওয়া হয়। আজ শনিবার (২ মে) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তেহরানের নতুন এই প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি মূল শর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অপরদিকে, পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল ইস্যুটি আপাতত স্থগিত রেখে পরবর্তীতে আলোচনার জন্য রাখা হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যেই পারমাণবিক আলোচনাকে পরবর্তী স্তরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যাতে আলোচনার জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হয়। সংশোধিত এই প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, সুস্পষ্ট গ্যারান্টির মাধ্যমেই চলমান এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে, যেখানে উল্লেখ থাকতে হবে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আর কোনো সামরিক হামলা চালাবে না। এর বিনিময়ে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় বিশ্ববাণিজ্যের জন্য খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রও তাদের নৌ-অবরোধ তুলে নেবে।
এদিকে, প্রস্তাব পাঠানোর খবরের মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হোসেন নৌসাবাদী যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বখেকো’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, একসময় সাম্রাজ্যবাদী পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস ও ইংল্যান্ডকে ইরান যেভাবে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিতাড়িত করেছিল, ঠিক একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রকেও এই অঞ্চল থেকে বিতাড়িত করা হবে। আজ শনিবার বার্তাসংস্থা ইসনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি এই অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বিতাড়িত করার ওপরই নির্ভরশীল। বিদেশিরা সবসময়ই ইরানের পরিচয় ও সভ্যতার অংশ হিসেবে পরিচিত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সম্পদের ওপর লোভী দৃষ্টি দিয়ে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন এই কর্মকর্তা।
বাংলাফ্লো/এফআইআর



