আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে ইরানের দেওয়া ৩ স্তরের নতুন শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন। পর্যালোচনা শেষে শিগগিরই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাবের ওপর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
গতকাল সোমবার (২৭ এপ্রিল) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এ প্রসঙ্গে বলেন, “আজ সকালে এ নিয়ে একটি আলোচনা হয়েছে; তবে এ বিষয়ে আমি আগেভাগে কিছু বলতে চাই না। আমি নিশ্চিত যে খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে আপনারা সরাসরি প্রেসিডেন্টের কাছ থেকেই বিস্তারিত জানতে পারবেন।”
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ এবং স্থায়ীভাবে উত্তেজনা নিরসনে সম্প্রতি ৩ স্তর বা পর্যায়ের এই নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান, যা গতকাল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। প্রস্তাবের প্রথম পর্যায়ে বলা হয়েছে, যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে এবং পরবর্তীতে ইরান ও লেবাননে আর কোনো আগ্রাসী হামলা চালানো হবে না—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এই নিশ্চয়তা দিতে হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে, প্রথম স্তরের দাবি মেনে নেওয়া হলে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালির পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আলোচনা শুরু হবে। সবশেষে তৃতীয় পর্যায়ে, প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ মীমাংসায় পৌঁছালে ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত টানা প্রায় ৪০ দিন যুদ্ধ চলার পর, ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে ওয়াশিংটন ও তেহরান। এরপর একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসলেও, ২১ ঘণ্টার টানা আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই ব্যর্থ হয়। প্রথম দফার ওই সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ উভয় পক্ষকে দ্বিতীয় দফা সংলাপে বসার আমন্ত্রণ জানায়। এ প্রেক্ষিতে ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি দ্বিতীয় দফা সংলাপে বসতে চায়, তবে তা এই নতুন প্রস্তাবের ভিত্তিতেই হতে হবে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






