আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত প্রমাণ করে যে পারমাণবিক অস্ত্র নিজের কাছে রাখার বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার সিদ্ধান্ত একেবারেই সঠিক ছিল বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলিতে দেওয়া এক ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ ও আগ্রাসনের’ অভিযোগ তুলে নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতাকে এখন ‘অপরিবর্তনীয়’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
কিম জং উন জানিয়েছেন, পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও ‘মিষ্টি কথা’ প্রত্যাখ্যান করে উত্তর কোরিয়া সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পারমাণবিক অস্ত্রহীন দেশগুলো যে মার্কিন সামরিক শক্তির সামনে কতটা অরক্ষিত, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ সেটিই প্রমাণ করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি কিমের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরুর ইঙ্গিত দিলেও পিয়ংইয়ং স্পষ্ট শর্ত জুড়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে মেনে নিতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে সব ‘শত্রুভাবাপন্ন নীতি’ ত্যাগ করতে হবে। কূটনীতির দরজা খোলা থাকলেও পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের কোনো প্রশ্নই ওঠে না বলে পরিষ্কার জানিয়েছেন কিম।
উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে কয়েক ডজন পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরি করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম বলে তাদের দাবি। সম্প্রতি তারা ক্রুজ মিসাইল ও পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন রকেটের পরীক্ষাও চালিয়েছে। কিম তাঁর কিশোরী কন্যা কিম জু আয়েকে সামরিক প্রদর্শনীগুলোতে সামনে এনে বিশ্বকে বার্তা দিচ্ছেন যে, এই পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল স্থায়ী নয়, বরং এটি বংশপরম্পরায় চলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব মোকাবিলায় মস্কোর সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করছে পিয়ংইয়ং। ইউক্রেন যুদ্ধে সহায়তার জন্য রাশিয়াকে আর্টিলারি শেল, রকেট ও হাজার হাজার সেনা সরবরাহ করেছে উত্তর কোরিয়া। বিশ্লেষকদের মতে, এর বিনিময়ে তারা খাদ্য, জ্বালানি, সংবেদনশীল সামরিক প্রযুক্তি এবং যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব তথ্য পাচ্ছে, যা তাদের অস্ত্রকে আরও নিখুঁত করতে সাহায্য করবে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর




