বিনোদন ডেস্ক
ঢাকা: বলিউড অভিনেতা সালমান খানের বাবা, বর্ষীয়ান চিত্রনাট্যকার সেলিম খানের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। বর্তমানে তিনি মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তবে তার কোনো ওপেন ব্রেইন সার্জারি করা হয়নি, বরং ‘ডিএসএ’ (DSA) নামক বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করেছেন চিকিৎসকরা।
হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ফলে তার শারীরিক জটিলতা বেড়েছে এবং চিকিৎসকরা নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
তার চিকিৎসক জলিল পার্কার জানিয়েছেন, প্রবীণ এই ব্যক্তিত্বের মস্তিষ্কে সামান্য রক্তক্ষরণ ধরা পড়ার পর ডিএসএ পরীক্ষাটি করা হয়। এটি কোনো সার্জারি নয়, বরং এক ধরনের অত্যাধুনিক রোগ নির্ণয় পদ্ধতি।
ডিএসএ (DSA) প্রোসিডিউর কী এবং কেন করা হলো? ডিএসএর পুরো নাম ডিজিটাল সাবট্র্যাকশন এনজিওগ্রাফি। এটি একটি উন্নত ও নির্ভুল ইমেজিং প্রযুক্তি, যা রক্তনালির জটিল সমস্যা শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
সেলিম খানের উচ্চ রক্তচাপ ও মস্তিষ্কে মৃদু রক্তক্ষরণের লক্ষণ দেখা দেওয়ায় এই পরীক্ষাটি জরুরি ছিল। তার মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন ঠিক আছে কি না বা নতুন করে কোনো বিপদের সম্ভাবনা আছে কি না, তা জানতেই এটি করা হয়।
যেভাবে কাজ করে ডিএসএ পদ্ধতি:
নালির প্রতিচ্ছবি: এটি এক ধরনের হাই-কোয়ালিটি এক্স-রে। এতে একটি বিশেষ ‘ডাই’ (Contrast Dye) নালির ভেতর প্রবেশ করানো হয়।
কম্পিউটারাইজড পদ্ধতি: কম্পিউটারের সাহায্যে হাড় বা অন্যান্য টিস্যুকে ছবি থেকে ডিজিটাল উপায়ে সরিয়ে দেওয়া হয়, ফলে কেবল রক্তনালিগুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
শনাক্তকরণ: রক্তনালিতে কোনো ব্লকেজ আছে কি না, রক্তনালি সরু হয়ে গেছে কি না বা কোনো ছিদ্র বা রক্তক্ষরণ হচ্ছে কি না—তা এই পদ্ধতিতে নিখুঁতভাবে ধরা পড়ে।
হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে সেলিম খান এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। বিশেষ করে জাভেদ আখতারের সঙ্গে তার ‘সেলিম-জাভেদ’ জুটি একসময় বলিউডে নতুন ধারার সূচনা করেছিল। তাদের কলম থেকে এসেছে ‘জঞ্জির’, ‘দিওয়ার’ ও ‘ডন’-এর মতো কালজয়ী সিনেমা।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ






