বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: ‘ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত’—ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রকৃতি ও জনজীবনে লেগেছে নতুনের ছোঁয়া। বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে আজ পয়লা ফাল্গুন। একই সঙ্গে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস।
১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হওয়া এই বসন্ত বরণ উৎসব এখন বাঙালির প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে। শীতের রুক্ষতা কাটিয়ে প্রকৃতি সেজেছে নতুন পাতায় আর রঙিন ফুলে। তবে ফাল্গুন কেবল উৎসবের নয়, এটি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের রক্তস্নাত ইতিহাসেরও স্মারক। শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙ মনে করিয়ে দেয় রফিক, শফিক, বরকতদের আত্মত্যাগের কথা, যা বাঙালির স্বাধীনতার সোপান রচনা করেছিল। ১৯৫০-৬০ এর দশকে পাকিস্তানি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রাখতে রবীন্দ্রসঙ্গীত ও বাঙালি নিয়মে এই ফাল্গুন পালন শুরু হয়েছিল।
ফাল্গুন নামটি এসেছে মূলত ফাল্গুনী নামে নক্ষত্র থেকে। খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ সালের দিকে চন্দ্রবর্ষ ও সৌরবর্ষ উভয়ই মেনে চলা হতো। ফাল্গুন ছিল পূর্ণ চন্দ্রের মাস। ১৯৫০-১৯৬০ দশকেই আনুষ্ঠানিকভাবে পয়লা ফাল্গুন পালন শুরু হয়। সেসময় বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তানের সংস্কৃতি থেকে নিজেদের আলাদা করতে রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনার পাশাপাশি বাঙালি নিয়মে পয়লা ফাল্গুন পালন শুরু করে।
বসন্ত নিয়ে লেখা হয়েছে অনেক গান, অনেক কবিতা। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভাষায় ‘ফুল ফুটুক, আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত’। বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের ‘বসন্ত নিয়ে জনপ্রিয় একটি গান হচ্ছে ‘বসন্ত বাতাসে সই গো বসন্ত বাতাসে, বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে সই গো, বসন্ত বাতাসে’। বিশ্ব কবি রবীন্ত্রনাথ ঠাকুর বসন্ত নিয়ে লিখেছেন অনেক কবিতা এবং গান।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






