লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাসে অনিয়ম এবং মানসিক চাপের কারণে যেকোনো বয়সেই হানা দিতে পারে হৃদরোগ। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এই ঝুঁকি অনেক বেশি। চিকিৎসকরা বলছেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে যারা হাসপাতালে আসেন, তাদের প্রায় ৮০ শতাংশেরই ‘লিপিড প্রোফাইল’ বা রক্তে চর্বির মাত্রা স্বাভাবিক থাকে না। তাই হৃদরোগ ঠেকাতে নিয়মিত লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরের অবস্থা জানা এবং সচেতন হওয়া এখন সময়ের দাবি।
ডা. এস রামাকৃষ্ণন এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন, প্রায় ৫০ শতাংশ হার্ট অ্যাটাকের ঘটনার সঙ্গে লিপিড প্রোফাইলের অস্বাভাবিক মাত্রার সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত, হার্ট অ্যাটাক বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পর অধিকাংশ রোগীর রিপোর্টে এই অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক রোগীই এর আগে কখনো এই পরীক্ষার নাম শোনেননি বা করাননি। প্রক্রিয়াজাত খাবার, ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত তেল-মসলাদার খাবার এবং অলস জীবনযাপন শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) ও ট্রাইগ্লিসারাইড বাড়িয়ে দেয়, যা হৃদরোগের ঝুঁকি ত্বরান্বিত করে।
লিপিড প্রোফাইলের মানদণ্ড ও চিকিৎসকের পরামর্শ সাধারণত লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষায় তিনটি মূল বিষয় দেখা হয়:
১. এলডিএল (খারাপ কোলেস্টেরল): এর মাত্রা ১০০-এর নিচে থাকা বাঞ্ছনীয়। এটি বেড়ে গেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও ওষুধের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
২. এইচডিএল (ভালো কোলেস্টেরল): এর মাত্রা ৪০-এর উপরে থাকা উচিত। ভালো কোলেস্টেরল বাড়ানোর কোনো ওষুধ নেই; শুধুমাত্র নিয়মিত শরীরচর্চা ও সুষম খাদ্যাভ্যাসই এটি বাড়াতে পারে।
৩. ট্রাইগ্লিসারাইড: এর মাত্রা ২০০-এর নিচে রাখা উচিত। অতিরিক্ত চিনি, অ্যালকোহল ও তৈলাক্ত খাবার এটি বাড়িয়ে দেয়।
চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন, ২০-২৫ বছর বয়স হলেই প্রতি পাঁচ বছর অন্তর একবার লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করানো উচিত। আর বয়স ৪০ পেরোলে বছরে অন্তত একবার এই পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক, যাতে নীরব ঘাতক হৃদরোগ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা যায়। প্রয়োজনে ‘এক্সটেনডেড লিপিড প্রোফাইল’ পরীক্ষার মাধ্যমে লাইপোপ্রোটিনের মাত্রাও জেনে নেওয়া জরুরি।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






