আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি এবং সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে বাস্তববাদী মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেছেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সরিয়ে দিলে ইরানের নেতৃত্ব কার হাতে যাবে, তা কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না। সিনেট কমিটির উদ্দেশে দেওয়া বক্তৃতায় রুবিও বলেন, ইরানের শাসক পরিবর্তন ঘটানো ভেনিজুয়েলার মতো সহজ বিষয় নয়। তিনি একটি রূপক ব্যবহার করে বলেন, ‘এটা কোনো ফ্রোজেন খাবার নয়, যেটা মাইক্রোওভেনে ঢুকিয়ে দুই–আড়াই মিনিটে তৈরি হয়ে যাবে। এগুলো খুবই জটিল বিষয়।’ খামেনি বা বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন হলে এরপর কী ঘটবে—সে বিষয়ে কোনো সহজ বা স্পষ্ট উত্তর কারও কাছে নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রুবিওর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরানকে আবারও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বে একটি বড় মার্কিন নৌবহর ইরানের দিকে পাঠানোর কথা জানিয়েছেন। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘আশা করি ইরান দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসবে—কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়। সময় ফুরিয়ে আসছে।’ আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে এবং পরবর্তী হামলা আগের চেয়েও ভয়াবহ হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। রুবিও এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র আগাম পদক্ষেপ নিয়ে হাজার হাজার মার্কিন সেনা, আঞ্চলিক স্থাপনা ও মিত্রদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে।
অন্যদিকে, ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে সামরিক হুমকির মুখে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘হুমকির পরিবেশে কোনো আলোচনা হতে পারে না।’ যুক্তরাষ্ট্রের চাপ প্রয়োগের কৌশলকে অকার্যকর উল্লেখ করে ইরান সতর্ক করেছে যে, কোনো মার্কিন সামরিক হামলা হলে তারা তাৎক্ষণিক ও কঠোর প্রতিশোধ নেবে, যা একটি বৃহত্তর সংঘাতের সূচনা করতে পারে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






