বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: বিএনপির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, আগামীতে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করতে পারলে দেশের ৪ কোটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর আওতায় আনা হবে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান। মার্টিন লুথার কিংয়ের বিখ্যাত উক্তি ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’-এর আদলে তিনি বলেন, “আই হ্যাভ এ প্ল্যান।”
চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি। অনুষ্ঠানে তিনি রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন, প্রতিহিংসা পরিহার এবং জনগণের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। হিংসা ও প্রতিশোধের পরিণতি কী হতে পারে, সেটা আমরা চব্বিশের ৫ আগস্ট দেখেছি। মতপার্থক্য যাতে বিভেদের কারণ না হয়, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে।”
তারেক রহমানের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ ও ফ্যামিলি কার্ড
তারেক রহমান তার বক্তব্যে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী অর্থাৎ নারীদের ক্ষমতায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তার পরিকল্পনার মূল দিকগুলো হলো:
ফ্যামিলি কার্ড: দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের নারীদের (গৃহিণী) নামে এই কার্ড দেওয়া হবে।
সময়সীমা: এটি সারাজীবনের জন্য নয়, বরং ৫ থেকে ৭ বছরের জন্য রাষ্ট্র থেকে বিশেষ সহায়তা (সাপোর্ট) দেওয়া হবে।
উদ্দেশ্য: এই সময়ের মধ্যে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা এবং পরিবারকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো।
গণতন্ত্র ও সংস্কার ভাবনা
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, যেকোনো মূল্যে জবাবদিহিতা ও গণতান্ত্রিক ধারা চালু রাখতে হবে। তিনি সংস্কারকে তিনটি ভাগে ভাগ করে তার ভাবনার কথা জানান: ১. সাংবিধানিক সংস্কার। ২. আইনগত সংস্কার। ৩. জনগণের দৈনন্দিন জীবনের নিরাপত্তা ও মানোন্নয়ন।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা শুধু রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সেমিনার ও তর্ক-বিতর্ক করছি। কিন্তু মানুষের চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, সন্তানের শিক্ষা বা রাস্তায় নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিয়ে আলোচনা কম হচ্ছে। এসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর আরও বেশি মনোযোগী হওয়া উচিত।”
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও অন্যান্য পরিকল্পনা
তারেক রহমান দেশের বেশ কিছু সংকট ও সমাধানের পথ নির্দেশ করেছেন:
পানি সংকট: বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা দূষণের কথা উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, আগামী ১০-১৫ বছর পর ঢাকা শহরে ভয়াবহ পানি সংকট দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্য খাত: যুক্তরাজ্যের উদাহরণ টেনে তিনি জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের অপ্রতুলতার কথা বলেন। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ১ লাখ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা জানান, যার ৮০-৮৫ শতাংশই হবেন নারী।
সড়ক নিরাপত্তা: বছরে ৭ হাজার মানুষের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও এর ফলে পরিবারগুলোর অসহায়ত্ব নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
কৃষক সহায়তা: দেশের ২০ কোটি মানুষের অন্নের জোগানদাতা কৃষকদের জন্য বিশেষ সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






