বিনোদন ডেস্ক
ঢাকা: পারিবারিক বন্ধন, সামাজিক অবজ্ঞা আর নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের এক অনন্য গল্প নিয়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘বঙ্গ’-তে সদ্য মুক্তি পেয়েছে বিশেষ নাটক ‘হ্যাভ এ নাইস ডে’ । জীবনমুখী নির্মাণ ও ব্যতিক্রমী গল্পের কারণে নাটকটির ট্রেইলার সহ ছোট ছোট ক্লিপ এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দর্শকদের নজর কেড়েছে। এটি কেবল গতানুগতিক প্রেমের গল্প নয়, বরং সমাজ ও মানুষের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের এক বাস্তব চিত্র।
নাটকটির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে দুই লড়াকু তরুণ-তরুণী—শুভ ও বৃষ্টিকে ঘিরে। ট্রেইলারে দেখা যায়, রিহ্যাব থেকে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাওয়া শুভ যখন অন্ধকার অতীত পেছনে ফেলে নতুন করে বাঁচতে চায়, সমাজ তখন তাকে ‘নেশাখোর’ বা ‘জেল ফেরত’ তকমা দিয়ে বারবার পিছু টানে। অন্যদিকে, মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দেওয়া বৃষ্টির পরিশ্রমী পেশাকে বাঁকা চোখে দেখে সমাজ। এই দুই অবহেলিত মানুষের জীবনের সমীকরণ কীভাবে মিলে যায় এবং কীভাবে তারা সমাজের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে, তা-ই নাটকের মূল আকর্ষণ।
গল্পের অন্যতম শক্তিশালী দিক হলো একজন রহস্যময় প্রবীণ ব্যক্তির উপস্থিতি। তাকে কখনো দেখা যায় সাধারণ ডেলিভারি ম্যানের ভূমিকায়, আবার কখনোবা দামি গাড়ি নিয়ে হাজির হতে। জীবনের চরম হতাশায় যখন শুভ আত্মহত্যার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে, তখন এই রহস্যময় ব্যক্তির একটি শক্তিশালী সংলাপ দর্শকদের নাড়া দিয়েছে— “রকস্টার হতে গিয়ে আপনি তো নেশাখোর স্টার হয়ে গেছেন, পারলে আগে রকস্টার হয়ে দেখান!” এই রহস্যময় ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় এবং তার অদ্ভুত সব কর্মকাণ্ড গল্পের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দেয়। নাফিজ আহমেদ, পূর্ণিমা বৃষ্টি এবং টনি মাইকেলের অনবদ্য অভিনয় নাটকটিকে বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

প্রায় দেড় দশকের বিরতি ভেঙে এই নাটকের মাধ্যমেই পরিচালনায় ফিরলেন টনি মাইকেল। নির্মাতা জানান, বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মগুলোর মতো দেশীয় ওটিটিতেও উৎসবকেন্দ্রিক ভালো কন্টেন্টের অভাব পূরণের চিন্তা থেকেই ‘হ্যাভ এ নাইস ডে’ নির্মাণ করেছেন তিনি। তার মতে, ধন্যবাদ বা সরি বলার মতো ছোট ছোট আচরণও কীভাবে মানুষের সম্পর্কের নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে, তাই এই গল্পের মূল উপজীব্য।
নাটকটির প্রধান চরিত্র নাফিস আহমেদ তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, এটি কেবল একটি নাটক নয়, বরং পথ হারানো মানুষের আলোর পথে ফেরার গল্প। তার মতে, মানুষ অনেক সময় ভুল পথে চলে গেলেও সঠিক অনুপ্রেরণা পেলে আবারো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। টনি মাইকেলের দক্ষ নির্মাণে এই ‘ফিরে আসার’ গল্পটি দর্শকদের মনে এক পজিটিভ প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশাবাদী।
নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা পূর্ণিমা বৃষ্টি তার অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এটি আমাদের সমাজের কর্মজীবী নারীদের বাস্তব সংগ্রামের গল্প। বিশেষ করে মেয়েদের বাড়ি ফেরার সময় নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি এখানে খুব নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। টনি মাইকেলের নির্দেশনায় কাজ করাকে তিনি একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে দর্শক এই জীবনঘনিষ্ঠ নাটকটি পছন্দ করবেন।
ক্ষমা এবং নিজেকে দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়ার এক সুন্দর বার্তা নিয়ে নির্মিত এই নাটকটি বর্তমানে ‘বঙ্গ’ প্ল্যাটফর্মে সরাসরি উপভোগ করা যাচ্ছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






