আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ইতালির সিসিলিতে জীবিকার সন্ধানে যাওয়া দুই বাংলাদেশি অভিবাসীকে অপহরণ করে অমানুষিক নির্যাতন এবং মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে চার বাংলাদেশি নাগরিককে শনাক্ত করেছে স্থানীয় পুলিশ। এর মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং একজন এখনো পলাতক রয়েছেন। ইতালির কাতানিয়া পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস ও অ্যান্টি-মাফিয়া অধিদপ্তর (ডিডিএ)-এর তদন্তে উঠে এসেছে স্বজাতীয়দের ওপর চালানো এই বর্বরোচিত নির্যাতনের চিত্র।
তদন্ত অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সিসিলির ভিটোরিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দুই যুবক ইতালির বহুল পরিচিত ‘দেক্রেতো ফ্লুসি’ (Decreto Flussi) ভিসার মাধ্যমে নিয়মিতভাবেই ইতালিতে এসেছিলেন। অভিযুক্তরা তাদেরকে চাকরি দেওয়া ও চুক্তি সই করানোর প্রলোভন দেখিয়ে ভিটোরিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে যায়, যা কার্যত ছিল তাদের জন্য ‘কারাগার’।
পুলিশ ও তদন্তকারীদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা, যা লিবিয়ার মানবপাচারকারীদের নির্যাতন পদ্ধতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ:
ভুক্তভোগীদের হাত-পা বেঁধে আলাদা কক্ষে আটকে রাখা হয়।
লোহার রড, ধাতব পাইপ ও শেকল দিয়ে মারধর করা হয়।
এমনকি শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও চালানো হয়।
মানসিক চাপ বাড়াতে নির্যাতনের সময় এক ভুক্তভোগীর চিৎকার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অন্যজনের পরিবারকে সরাসরি শোনানো হতো।
পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ২০ হাজার ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা) মুক্তিপণ আদায়ের পর ভুক্তভোগীদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে পুলিশকে জানালে হত্যার হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় তাদের। অভিযুক্তদের বয়স যথাক্রমে ২৫, ৩৪, ৩৩ ও ৪৩ বছর। তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ, গুরুতর নির্যাতন ও চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে।
ডিডিএর তত্ত্বাবধানে রাগুসা ফ্লাইং স্কোয়াড এই অভিযান পরিচালনা করে। আদালতের নির্দেশে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পলাতক চতুর্থ আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






