আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: রুশ বাহিনীর প্রবল আক্রমণের মুখে অবশেষে পূর্বাঞ্চলীয় শহর সিভারস্ক থেকে নিজেদের সৈন্য সরিয়ে নিয়েছে ইউক্রেন। মঙ্গলবার ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সৈন্যদের জীবন রক্ষা এবং ইউনিটের যুদ্ধের সক্ষমতা বজায় রাখতেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই শহরটি পতনের ফলে দোনেৎস্ক অঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আরও দুটি শহর—স্লোভিয়ানস্ক ও ক্রামাতোরস্ক এখন রাশিয়ার নাগালের মধ্যে চলে এল।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানায়, রুশ বাহিনীর হাতে ‘যথেষ্ট জনবল’ ও রসদ থাকায় তারা সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরেও রুশ সেনারা বিরামহীন আক্রমণ চালিয়ে গেছে। ইউক্রেন দাবি করেছে, পিছু হটার আগে তারা সিভারস্কের যুদ্ধে শত্রুপক্ষকে ক্লান্ত ও দুর্বল করে দিয়েছে। তবে শহরটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধের আগে যেখানে ১১ হাজার মানুষ বাস করত, এখন সেখানে শুধুই হাহাকার।
সিভারস্ক দখলের মাধ্যমে মস্কো এখন দোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং লুহানস্কের ৯৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। সিভারস্কের পতনের ফলে ইউক্রেনের শেষ শক্তিশালী ঘাঁটি বা ‘দুর্গ’ হিসেবে বিবেচিত স্লোভিয়ানস্ক ও ক্রামাতোরস্ক দখলের পথ রাশিয়ার জন্য আরও সহজ হয়ে গেল। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগেই সতর্ক করেছেন, পুরো দনবাস (দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক) ছেড়ে না দিলে রাশিয়া তা দখল করে নেবে।
ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার গুঞ্জন থাকলেও মাঠের চিত্র ভিন্ন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর দনবাসের পুরো এলাকা রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছেন। তবে জেলেনস্কি ভূখণ্ড ছাড়তে নারাজ; তিনি পাল্টা নিরাপত্তার গ্যারান্টি দাবি করছেন। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বড়দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব রাশিয়া প্রত্যাখ্যান করেছে।
সোমবার রাতে রাশিয়া ইউক্রেনে ৬৩৫টি ড্রোন ও ৩৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী ৬২১টি ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করলেও জাইতোমির, কিয়েভ ও খমেলনিতস্কি অঞ্চলে হামলায় এক শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এর জবাবে ইউক্রেনও রাশিয়ার দক্ষিণ সত্রাভরোপোলে একটি রাসায়নিক কারখানায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
জাপোরিঝঝিয়ায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ওলেকসান্দর চিরভোনি বিবিসিকে জানান, দিনে গড়ে মাত্র ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে এবং মিসাইল আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে তাদের।বাংলাফ্লো/এফআইআর






