বাংলাফ্লো প্রতিনিধি
ঢাকা: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বাংলাদেশ এমন অনেক নিভৃতচারী বীরের দেশ, যারা নীরবে দেশ ও বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছেন। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সুদানে নিহত শান্তিরক্ষী এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এ কে খন্দকারের ত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
শফিকুল আলম তার পোস্টে সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি লেখেন, “তারা ছিলেন আমাদের শান্ত গ্রামগুলো থেকে আসা নিভৃতচারী বীর—কেউ স্বামী, কেউ বাবা, আবার কেউ বাবা-মায়ের আদরের সন্তান। অত্যন্ত মর্যাদা ও গাম্ভীর্যের সঙ্গে তাদের শেষ বিদায় জানানো হয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের অস্থির অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে গিয়ে এই তরুণরা জীবন দিয়েছেন, যাদের আত্মত্যাগ জাতিসংঘ প্রতিনিধি ও সহকর্মীরা স্মরণ করছেন।
পোস্টে প্রেস সচিব মুক্তিযুদ্ধের উপ-প্রধান সেনাপতি এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকারের বীরত্বগাঁথা তুলে ধরেন। তিনি লেখেন:
এ কে খন্দকার ছিলেন একজন জিডি পাইলট, যিনি ৩,৪০০ ঘণ্টারও বেশি যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করেছেন।
একান্তই পারিবারিক ও শান্ত স্বভাবের এই মানুষটি ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিমানবাহিনীর বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেন এবং ‘কিলো ফ্লাইট’ গঠন করেন, যা মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত ভূমিকা পালন করেছিল।
তিনিই ছিলেন সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ বাংলাদেশি মুক্তিযোদ্ধা, যিনি পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ প্রত্যক্ষ করেছিলেন।
শফিকুল আলম তার পোস্টে উল্লেখ করেন, “পরবর্তীতে তিনি (এ কে খন্দকার) নীরবে শেখ হাসিনার উপস্থাপিত ইতিহাসের বয়ানকে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন—এবং এর জন্য তাকে মূল্যও দিতে হয়েছে।” জীবনের শেষ সময়গুলো তিনি পড়ালেখা ও লেখালেখি করেই কাটিয়েছেন।
পোস্টের শেষে তিনি মন্তব্য করেন, “বাংলাদেশ বীরদের দেশ—যদি আপনি জানেন ঠিক কোথায় তাদের খুঁজতে হয়।”
বাংলাফ্লো/এফআইআর






