অর্থনীতি ডেস্ক
ঢাকা: শুধুমাত্র প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের (রেমিট্যান্স) ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং নিজস্ব পণ্য উৎপাদনের কোনো বিকল্প নেই।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এসব কথা উঠে আসে। সেমিনারে ‘দ্য ইমপ্যাক্ট অব রাইজিং ওয়েল প্রাইস অন রেমিট্যান্স অ্যান্ড মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্স ইন আ স্মল ডেভেলপিং কান্ট্রি’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুব মোর্শেদ। সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ড. মোহাম্মদ ইউনূস।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিকের চাহিদা ও মজুরি বাড়তে পারে, ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ে। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠে, তেলের দাম বাড়লে বাংলাদেশের মতো ছোট অর্থনীতির দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ খরচ বেড়ে যায়, মূল্যস্ফীতি বাড়ে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান নিচে নেমে যায়। তাই শুধু রেমিট্যান্স বৃদ্ধির দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না।
উন্নত দেশ হওয়ার লক্ষ্যে চীনের উদাহরণ টেনে সেমিনারে বলা হয়, রেমিট্যান্সের আয় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ করা জরুরি। তবে গতানুগতিক উচ্চশিক্ষিত বেকার তৈরি না করে ভোকেশনাল শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। চীনে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের ধাপে ধাপে যাচাই করা হয়, যার ফলে তারা আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি করেছে।
সেমিনারে বক্তারা উল্লেখ করেন, দেশের মেধাবীরা উচ্চশিক্ষা নিয়ে বিদেশে চলে যাচ্ছেন, কিন্তু তাদের কাছ থেকে খুব বেশি রেমিট্যান্স আসছে না। অথচ অদক্ষ শ্রমিকরাই মূল রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। দীর্ঘ মেয়াদে রেমিট্যান্সের ওপর করারোপের বিষয়টিও চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে বলে মত দেওয়া হয়। যতদিন দেশ উন্নত না হচ্ছে, ততদিন শ্রমিক পাঠানোকে উৎসাহ দিলেও ভবিষ্যতে দেশের শ্রমিকদের দেশেই কাজে লাগানোর সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
সেমিনারে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিআইজিডি’র ভিজিটিং সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. কাজী ইকবাল বলেন, “রেমিট্যান্স সরাসরি দেশ উন্নত না করলেও পরোক্ষভাবে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ায়, যার ফলে দেশে প্রাণ-আরএফএল এবং ওয়ালটনের মতো বড় শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। এছাড়া রিজার্ভ বৃদ্ধিতেও রেমিট্যান্সের ভূমিকা অনস্বীকার্য।”
বাংলাফ্লো/এফআইআর






