তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
ঢাকা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও প্রযুক্তি নিয়ে বেফাঁস ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে তিনি প্রশ্ন করেন, “সিক্সজি কি মানুষের ত্বকের ভেতর পর্যন্ত দেখায়?” তার এই মন্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসির রোল পড়ে গেছে এবং প্রযুক্তি বিষয়ে প্রেসিডেন্টের জ্ঞান নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প সিক্সজি (6G) মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং ভিডিওর রেজুলেশন (যেমন 8K) এর মধ্যে গুলিয়ে ফেলেছেন। অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ফাইভজি চালুর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এরপর তিনি প্রশ্ন করেন, “সিক্সজি আসলে কী করে? এটা কি কারও ত্বক একটু গভীরভাবে দেখায়?” অথচ সিক্সজি হলো পরবর্তী প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি, এর সঙ্গে ভিডিওর স্বচ্ছতা বা রেজুলেশনের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
ট্রাম্পের এমন মন্তব্য নতুন নয়। ২০১৯ সালেও তিনি “যত দ্রুত সম্ভব সিক্সজি” চেয়েছিলেন, যখন ফাইভজি-ই ঠিকমতো চালু হয়নি। এছাড়া অতীতে তিনি বলেছিলেন, “চাঁদ মঙ্গলেরই অংশ”, বিদেশি পণ্যের শুল্ক নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হয়নি এমন ফোনকে “মেড ইন ইউএসএ” বলে বাজারজাত করেছিলেন।
প্রযুক্তি বিষয়ক ভুল ধারণার পাশাপাশি ট্রাম্পের নীতিগুলোও সমালোচিত হচ্ছে। তার মনোনীত এফসিসি কমিশনাররা ‘নেট নিউটালিটি’ বা নিট নিরপেক্ষতা বাতিল করেছেন, যা মোবাইল অপারেটরদের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা তুলে দিয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি ব্রডব্যান্ডের ‘নিউট্রিশন লেবেল’ সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা গ্রাহকদের লুকানো চার্জ ও বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন থেকে সুরক্ষা দিত। ফাইভজি নিয়ে তার আমলের টি-মোবাইল ও স্প্রিন্টের একীভূতকরণও কাঙ্ক্ষিত সুফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে যখন প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে, তখন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন অস্পষ্ট ধারণা ও মন্তব্য দেশের প্রযুক্তি খাতের জন্য বিব্রতকর।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






