আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: পাকিস্তানের সামরিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সরকারের সুপারিশে দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ অসীম মুনিরকে আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের প্রথম ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ (সিডিএফ) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্রধারী এই দেশটির নতুন প্রভাবশালী এই পদে তাঁর মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এই নিয়োগে অনুমোদন দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, অসীম মুনিরকে একই সঙ্গে চিফ অব আর্মি স্টাফ (সিওএএস) এবং সিডিএফ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগের ফলে পাকিস্তানের সেনা, নৌ ও বিমান—তিন বাহিনীর সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব এখন তাঁর হাতে।
সিডিএফ পদটি শুধু তিন বাহিনীর ওপর কর্তৃত্বই দেয় না, বরং জাতীয় কৌশলগত কমান্ডের ওপরও নজরদারির এখতিয়ার দেয়, যা পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাপনার দেখভাল করে। ফলে দেশটির সামরিক কাঠামোয় অসীম মুনির বর্তমানে সবচেয়ে ক্ষমতাধর কর্মকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
নতুন এই পদে অসীম মুনিরকে নজিরবিহীন আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। সিডিএফ হিসেবে তিনি প্রেসিডেন্টের কাছাকাছি মর্যাদা পাবেন এবং প্রেসিডেন্টের মতোই আজীবন যেকোনো আইনি মামলার হাত থেকে রেহাই পাবেন। এই সুরক্ষা বিমান ও নৌবাহিনীর প্রধানদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
সংবিধানের ২৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে তৈরি এই পদটি সামরিক কমান্ডকে কেন্দ্রীভূত করেছে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, সামরিক বাহিনীর ওপর বেসামরিক সরকারের নজরদারি ক্ষমতা হ্রাস করা হয়েছে। এখন থেকে সিডিএফই ভাইস চিফ অব আর্মি স্টাফ পদে নিয়োগের সুপারিশ করবেন, যা আগে পুরোপুরি বেসামরিক সরকারের হাতে ছিল।
অসীম মুনির পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম কর্মকর্তা যিনি একাধারে ফাইভ-স্টার ফিল্ড মার্শাল, সিওএএস এবং সিডিএফ—শীর্ষ তিনটি পদের কর্তৃত্ব ধরে রেখেছেন। এর আগে, ১৯৬৫ সালে আইয়ুব খান ফিল্ড মার্শাল উপাধি পেয়েছিলেন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






