১৫ দিন বন্ধ ঢাবি, হল ত্যাগের নির্দেশ মানতে নারাজ শিক্ষার্থীরা
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
ঢাবি: সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একাডেমিক কার্যক্রম আগামী ১৫ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের আগামীকাল (রবিবার) বিকেল ৫টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। তবে এই বাধ্যতামূলক হল ছাড়ার নির্দেশকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মূল অভিযোগ হলো— নিরাপত্তার কারণ দেখানো হলেও, মূলত প্রশাসনের লক্ষ্য হচ্ছে হাজী মুহাম্মদ মুহসিন হল শিক্ষার্থীদের দ্বারা দখলকৃত আবাসিক ভবন ‘স্বাধীনতা টাওয়ার’ দখলমুক্ত করা। শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাহাত বলেন, “মুহসিন হল শিক্ষার্থীদের অভিযোগ- কর্মচারী ভবন স্বাধীনতা টাওয়ার দখলমুক্ত করতে তড়িঘড়ি করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” অন্য শিক্ষার্থী ফেরদৌস আইমানের মতে, প্রশাসন এবং ছাত্র সংসদের যোগসাজশে পলাশীর স্টাফ কোয়ার্টার দখলমুক্ত করতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থী রাহাত আরও অভিযোগ করেন, ১৫ দিনের এই তড়িঘড়ি বন্ধের মাধ্যমে হলগুলো স্থায়ীভাবে সংস্কারের চাপ কমে আসবে এবং প্রশাসন সাধারণ ইন্সপেকশনের মাধ্যমে দায় সারা সম্ভব হবে। আবির হাসান বলেন, “ইন্সপেকশানের সময় হলে যদি কেউ থাকতে চায়, তাহলে অসুবিধা কী? হলে কেউ থাকলে ইন্সপেকশান করা যাবে না, নাকি? এমন তো না যে– ১৫ দিন পরে একদম সেইফ হয়ে যাবে এই বিল্ডিং।”আবির হাসান প্রশ্ন তোলেন, “সামনের ডিসেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অ্যাডমিশন টেস্ট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীদেরই এই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছুদের টিউশনি আছে, অনেকের রিসার্চ, ইন্টার্নশিপ বা জব প্রিপারেশনের ব্যাপার আছে। হল ছাড়তে বাধ্য করে এতগুলো মানুষকে বিড়ম্বনায় ফেলার পয়েন্ট কী?”
বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের এই তথ্য জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






