বাংলাফ্লো প্রতিনিধি
ঢাকা: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই ‘জুলাই সনদ’-এর ওপর গণভোট আয়োজনের যে ঘোষণা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দিয়েছেন, তাতে ‘জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি’ বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি এই সিদ্ধান্তকে ‘সংকট নিরসনের বদলে সংকট রেখে দেওয়া’ বলে অভিহিত করেছে এবং জাতীয় নির্বাচনের আগেই (নভেম্বর মাসে) গণভোট আয়োজনের দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে, প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের পরপরই, মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান।
গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম যে, আজকের জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে সেই সংকটের নিরসন হবে। …কিন্তু আমরা প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে যে বিষয়গুলো পেলাম… একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ঘোষণায় জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি।”
জামায়াত নেতা নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনের ঘোষণায় বেশ কয়েকটি ‘সংকট’ তুলে ধরেন: ১. ভোটারদের প্রস্তুতির অভাব: তিনি বলেন, জুলাই সনদের ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব অত্যন্ত ‘ক্রিটিক্যাল’ বিষয়। ভোটারদের এগুলো সম্পর্কে জানার, বোঝার এবং মাইন্ডসেট করার জন্য সময় প্রয়োজন। নির্বাচনের আগে তা না হলে, ভোটাররা না জেনেই ভোট দেবেন।
২. মনোযোগের অভাব: “একই দিনেই তাকে ওই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আবার একটা প্রতীকের জাতীয় নির্বাচনেও ভোট দিতে হবে। …ভোটার তো সেই জুলাই চার্টার সম্পর্কে অবহিত হয়ে… তিনি তো সেটা আগে বুঝবেন…।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ভোটের দিন ভোটাররা নিজ নিজ দলের প্রতীকের প্রতিই বেশি সিরিয়াস থাকবেন, গণভোটের ব্যালটের দিকে মনোযোগ থাকবে না।
৩. সহিংসতার ঝুঁকি: তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের ইতিহাসে… প্রত্যেকটি নির্বাচনে কমবেশি কিছু কিছু ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা হয়ে থাকে… গোলাগুলি হলো, ভোট স্থগিত হয়ে গেল। একই দিনে ভোট হলে এমন ঘটনা তো… ঘটতে পারে। তাহলে জাতীয় নির্বাচন, প্রতীকের ভোট বন্ধ হলো। সেদিন গণভোটের দশাটা কী হবে? এর কোনো জবাব নেই।”
গোলাম পরওয়ার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা আটটি দলের পাঁচ দফা (নভেম্বরে গণভোটসহ) দাবি আদায়ে চলমান আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
তিনি জানান, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ আজ সন্ধ্যা ৬টায় আইনি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের বিস্তারিত পর্যালোচনায় বসবে। এরপর, আগামী ১৬ নভেম্বর আট দলের শীর্ষ নেতারা সম্মিলিতভাবে বৈঠক করে তাঁদের পরবর্তী করণীয় ও প্রতিক্রিয়া ঘোষণা করবেন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






