আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ইরান তার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ খরার মুখোমুখি হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় যে, দেশটির বিশেষজ্ঞরা একে বহিঃশত্রুর আক্রমণের চেয়েও বিধ্বংসী বলে অভিহিত করেছেন। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, রাজধানী তেহরানের জলাধারগুলোতে আর মাত্র ৯ দিনের খাবার পানি অবশিষ্ট রয়েছে। তিনি সতর্ক করেছেন, শীঘ্রই বৃষ্টি না হলে রাজধানী খালি করে ফেলার প্রয়োজন হতে পারে।

ইরানের পরিবেশ বিভাগের সাবেক উপ-প্রধান কাভেহ মাদানি, যিনি বর্তমানে নির্বাসিত, পরিস্থিতির ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “প্রকৃতি এখন ইরানের সঙ্গে যা করছে, তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুও হয়তো কামনা করতে পারতেন না। ইরানে ফেলা বোমার চেয়েও এখনকার পরিস্থিতি অনেক বেশি খারাপ।”
মাদানি আরও বলেন, “বৃষ্টি-নির্ভর পাহাড়ি জলাধার এবং ভূগর্ভস্থ পানির সঞ্চয়—উভয়ই এখন নিঃশেষ হয়ে গেছে।” তিনি সতর্ক করেন, প্রকৃতিই এখন ইরান সরকারের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট একদিনে তৈরি হয়নি। পূর্ববর্তী সরকারগুলো দিনের পর দিন বিপদ সংকেত উপেক্ষা করেছে। কাভেহ মাদানি একসময় ইরানকে ‘পানি দেউলিয়া’ দেশ হিসেবে সতর্ক করেছিলেন, যার ফলে তাকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়।

মাদানি উল্লেখ করেন, এই সংকটের মূলে রয়েছে রাজনীতি। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ‘প্রতিরোধ অর্থনীতি’ নীতির কারণে, যেখানে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, সেখানে বড় আকারের কৃষি সংস্কার করা রাজনৈতিকভাবে অসম্ভব ছিল।

তেহরানের দৈনিক পত্রিকা জাহান-ই- সানাত লিখেছে, “সরকার কাঠামোগত সমাধানের পরিবর্তে সংকট মোকাবিলার দায় জনগণের কাঁধেই চাপিয়ে দিয়েছে। সেই নীতিগুলোর ফল আজ আমাদের সামনে: এমন এক শহর, যাকে বেঁচে থাকার জন্য বৃষ্টির প্রার্থনায় তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে।”
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সংসদকে বলেছেন, “বাঁধের পেছনে কোনো পানি নেই, আমাদের কূপগুলোও শুকিয়ে যাচ্ছে। এটি সবার কূপ এবং আল্লাহর পাঠানো বৃষ্টি আমাদের সঠিকভাবে ব্যবহার করা উচিত—এটুকুই।”

ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদের জলাধারগুলোতে পানির স্তর ৩ শতাংশের নিচে নেমে গেছে এবং ১৯টি প্রধান বাঁধ শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। টানা ষষ্ঠ বছরের খরায় বৃষ্টিপাত কমেছে ৪০ শতাংশ। এর ফলে ঐতিহাসিক পার্সিপোলিসের মতো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের নিচে মাটি ধসে পড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






