তুরস্কের ইস্তামবুলে অনুষ্ঠিত আলোচনার আগের দফা ব্যর্থ হলেও শান্তিকে আরেকবার সুযোগ দিতে রাজি হয়েছে পাকিস্তান। তুরস্কের অনুরোধে আবারও আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের সঙ্গে সংলাপে বসতে সম্মত হয়েছে দেশটি।
আজ ৩০ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জিও নিউজ জানিয়েছে, পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল আলোচনার আগের দফা ব্যর্থ হওয়ায় দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু তুরস্কের মধ্যস্থতার পর তারা এখন ইস্তানবুলেই অবস্থান বাড়িয়েছে, যাতে আলোচনা অব্যাহত রাখা যায়। পাকিস্তান বরাবরই তালেবান শাসনকে জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ড যেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে ব্যবহার না হয়।
আলোচনায় মূল গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে পাকিস্তানের দাবির ওপর— আফগানিস্তান যেন তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী পাকিস্তানে হামলা চালাতে না পারে, এ বিষয়ে পরিষ্কার, যাচাইযোগ্য ও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়। তবে আগের দফায় তালেবান সরকার এমন নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আলোচনাটি ভেঙে গিয়েছিল।
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বুধবার এক্স–এ পোস্ট করে জানান, ইস্তামবুলে চার দিনের আলোচনায় পাকিস্তান বারবার প্রমাণসহ সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপের দাবি তুললেও তা কোনো বাস্তবসম্মত সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। সংলাপ কোনো কার্যকর সমাধান এনে দিতে পারেনি। কাতার, তুরস্কসহ বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোকে ধন্যবাদ, শান্তিপূর্ণ সমাধানে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার জন্য।
এর আগের দিন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সতর্ক করে বলেন, তালেবান যদি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জঙ্গিদের কার্যক্রম চালাতে দেয়, তবে ইসলামাবাদ আফগানিস্তানের ভেতরে স্থানে বিমান হামলা চালাতে দ্বিধা করবে না। তালেবান সরকার কেবল নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ও যুদ্ধ অর্থনীতিকে সচল রাখতে আফগানিস্তানকে নতুন সংঘাতে ঠেলে দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৭ অক্টোবর তালেবান সরকারের অনুরোধে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসলামাবাদ। এরপর কাতারের রাজধানী দোহায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু হয় ২৫ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তামবুলে। তবে চার দিনব্যাপী আলোচনাও অচলাবস্থায় পড়ে যায়।






