২০২৩ সালে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জাতিগত সচেতন ভর্তি নীতি (অ্যাফারমেটিভ অ্যাকশন) নিষিদ্ধ করার পর হার্ভার্ড কলেজে এশীয়-আমেরিকান শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার বেড়েছে। ২০২৯ শিক্ষাবর্ষে (নতুন ব্যাচে) এ হার দাঁড়িয়েছে ৪১ শতাংশে- যা ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ২৯.৯ শতাংশের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ পয়েন্ট বেশি, গত বছর যা ছিল ৩৭ শতাংশ।
বার্তা সংস্থা এপি এ তথ্য জানিয়েছে।
তবে এশীয় শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়লেও, অন্যান্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর ভর্তির হার কমেছে। কৃষ্ণাঙ্গ (আফ্রিকান-আমেরিকান) শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার ১৪ শতাংশ থেকে কমে ১১.৫ শতাংশে নেমেছে। হিস্পানিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই পতন আরও তীব্র-১৬ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ১১ শতাংশ। এটি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন হিসেবে দেখা দিয়েছে।
এই পরিবর্তন এমন সময় ঘটছে, যখন হার্ভার্ড কোভিড-১৯ মহামারির পর প্রথমবারের মতো মানসম্মত পরীক্ষা (স্ট্যান্ডার্ডাইজড টেস্ট স্কোর) বাধ্যতামূলক করেছে। পাঁচ বছর পর পরীক্ষার ফলাফল পুনর্বহালের পর এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন জমা পড়েছে ৪৭,৮৯৩টি, যা গত বছরের ৫৪,০০৮টির তুলনায় কম। এবার ভর্তি হয়েছেন ২,০০৩ জন শিক্ষার্থী, ফলে ভর্তির হার বেড়ে ৪.১৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে- যা ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ।
নবাগতদের মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর হার স্থির রয়েছে ১৫ শতাংশে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন গত বছর শিক্ষার্থী ভর্তিতে সীমাবদ্ধতা আরোপের চেষ্টা করেছিল এবং হার্ভার্ডের শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচির (SEVP) সনদ বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছিল, যা পরে আদালতের রায়ে আটকে যায়।
এশীয় শিক্ষার্থীদের এই বৃদ্ধি নিয়ে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। ‘স্টুডেন্টস ফর ফেয়ার অ্যাডমিশনস’ (SFFA) নামের সংগঠন-যারা অ্যাফারমেটিভ অ্যাকশন নীতির বিরুদ্ধে মামলা করে জিতেছিল-দাবি করেছে, আগে হার্ভার্ড কম প্রতিনিধিত্বকারী সংখ্যালঘুদের সুবিধা দিতে গিয়ে অনেক যোগ্য এশীয় আবেদনকারীকে বঞ্চিত করেছিল। নতুন তথ্য তাদের অভিযোগকে কিছুটা সমর্থন দিলেও, বিতর্ক উঠেছে- এটি কি প্রকৃত অগ্রগতি, নাকি এক সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর সুযোগ অন্য গোষ্ঠীর কাছে স্থানান্তর মাত্র?
একই সঙ্গে স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। হার্ভার্ড ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে বিলম্ব করছে এবং গণনা পদ্ধতিতেও পরিবর্তন এনেছে, যা বছরভিত্তিক তুলনা জটিল করে তুলছে। বিশ্ববিদ্যালয় বাধ্যতামূলক পরীক্ষার পক্ষে যুক্তি দিলেও, সমালোচকদের মতে এটি কম সুবিধাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বাধা তৈরি করছে।
হার্ভার্ডের এই চিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও মিলে যায়। প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থীর ভর্তির হার নেমে এসেছে ৫ শতাংশে-যা ১৯৬৮ সালের পর সর্বনিম্ন। অপরদিকে, সেখানে এশীয়-আমেরিকান শিক্ষার্থীর হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭.১ শতাংশে।
এপি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় সব নির্বাচিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব কমছে। ট্রাম্প প্রশাসনও এখন ভর্তি প্রক্রিয়ায় “লুকানো জাতিগত প্রভাব” অনুসন্ধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিস্তারিত তথ্য দিতে বলেছে, আর এসএফএফএ ইয়েল, প্রিন্সটন ও ডিউকের বিরুদ্ধেও একই বিষয়ে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।


