গত কয়েকদিনে সরকার প্রধানের সাথে নির্বাচনকালীন প্রশাসন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনায় বিষ্ময় প্রকাশ করে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, যেন তেন নির্বাচনই বড় রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ফারইস্ট মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ পার্টি-এবি পার্টি এবং রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ইউনাইটেড পিপলস-আপ বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার শুরুতেই মাহমুদুর রহমান জুলাই শহীদ আনাসের চিঠি পাঠ করে শোনান।
মাহমুদুর রহমান বলেন, শহীদ আনাসসহ হাজারো শহীদ শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য জীবন দেয় নাই। বড় রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের প্রতিষ্ঠিত ক্ষমতা কাঠামো হারানোর ভয়ে জুলাইকে বিপ্লব না বলে শুধু আন্দোলন বলে থাকে। অথচ শহীদদের আত্মত্যাগ আর জনতার অকুন্ঠ সমর্থনকে সরকারের বৈধতার সিঁড়ি মনে না করে ১০৬ অনুচ্ছেদকে ভিত্তি মনে করা।
তিনি আরও বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের লড়াই শেষ হয়নি। নির্বাচনের পরই সব সমাধান হয়ে যাবে মনে করা বোকামি হবে। আগামীতেও গণমাধ্যমকে শাসকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হবে বলে আশংকা প্রকাশ করেন তিনি।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাইয়ের সকল শক্তিকে ভুল সংশোধন করে আবার রাজপথে নামতে হবে। আবু সাঈদ যে কারণে জীবন দিয়েছে, সেটি ধরে রেখে নতুন লড়াই শুরুর ঘোষণা দেন তিনি। এছাড়াও রাজনৈতিক দলগুলোকে গত ১৭ বছরের লড়াই স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ক্ষমতা আর জনতাকে আলাদা করার সুযোগ নাই, জনগণের কাছেই ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে হবে।
তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন সাধারণ নির্বাচন নয়, ৪৬ বা ৭০ সালের মত এই নির্বাচন ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ নির্বাচনের মত এবার যেন টাকার খেলা না হয়। এবার জনগণকে দেশপ্রেমের পরীক্ষা দিতে হবে।
তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের অনেক নেতা বিলাসকে বেছে নিয়েছে। অথচ বিপ্লব আর বিলাস কখনো এক হতে পারে না। বিপ্লব আর যেন বেহাত না হয় সেজন্য জনগণকে সজাগ থাকার আহবান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত অভ্যুত্থান শেষ হতে পারে না। একক নেতা নয় বরং বহু মত পথের মানুষ জুলাই অভ্যুত্থানের চালিকাশক্তি।
সভায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ফ্যাকাল্টির ডিন অধ্যাপক ড. ওয়ারেসুল করিম বুলবুল বলেন, এই আয়োজন মাইলফলক হবে যদি, জনতামূখী জোট করা যায়।
আপ বাংলাদেশের আহবায়ক আলি আহসান জুনায়েদ বলেন, ক্ষমতা ভাগাভাগির দৌড় অভ্যুত্থানকে ভুলিয়ে দিচ্ছে। অথচ হাসিনার ক্ষমতাকে দেবত্ব দেয়ার প্রতিবাদে দেশবাসী মাঠে নেমেছিল। ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত রাখার প্রতিবাদেই জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছিল। ফ্যাসিবাদী কাঠামো এখনো বহাল আছে, অথচ শুধু ক্ষমতার দৌড়ই অনেক রাজনৈতিক দলের লক্ষ্যবস্তু হয়ে পড়ছে।
জনগণের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়াই অভ্যুত্থানের আসল চেতনা, আর কখনো ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা ফিরতে দেয়া হবে না বলে প্রত্যয় জানান তিনি।
এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মেজর (অব) ডা. আব্দুল ওহাব মিনার বলেন, অভ্যুত্থানপন্থী সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।
আপ বাংলাদেশের সদস্য সচিব আরেফিন হিজবুল্লাহ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মূলে ছিল ফ্যাসিস্ট হাসিনার জিহবা। হাসিনার কথা শুরু হলে মনে হত, এসব শোনার চেয়ে আমাজন জঙ্গলে বসবাস করা ভালো। আমলাতান্ত্রিক জমিদারি এখনো বহাল আছে, এটা অভ্যুত্থানের বাস্তবতা নয়। তিনি বলেন, জনতার ক্ষমতায়নই হবে জুলাই অভ্যুত্থানের মূল কথা।
প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাত বলেন, অভ্যুত্থানের অনেক সহযোগী অনেকে পুরোনো ধাঁচের রাজনৈতিক খেলায় ডুবে গেছে। রাতের আঁধারে কারো বাসায় বসে নির্বাচনী আসন নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা গণ অভ্যুত্থানের চেতনা হতে পারে না।
সমাবেশের শুরুতে মজিবুর রহমান মঞ্জু তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে বহু নতুন নতুন শ্লোগান সংগ্রামী জনতার কণ্ঠে জাগরণ এনেছিলো। তার মধ্যে একটি শ্লোগান নতুন করে মানসপটে খুব রেখাপাত করেছিল, সেটা হলো “ক্ষমতা না জনতা- জনতা জনতা।”
এছাড়া সভায় আরও বক্তব্য দেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি, রাস্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতা দিদার ভুইয়া প্রমূখ।


