ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি দুটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে অনুমতি দিয়েছে। পাশাপাশি নেতাদের জন্য একটি বুলেটপ্রুফ বাসের অনুমতি পেয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই গাড়িগুলো বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারে নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করা হবে। এখনো ঠিক হয়নি কোন দেশ থেকে গাড়ি আনা হবে, তবে জাপানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বিএনপির নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান দেশজুড়ে প্রচারে অংশ নেবেন, তাই তাঁদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনা হচ্ছে। বিএনপি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সেরও আবেদন করেছে, একটি শটগান ও দুটি পিস্তলের জন্য।
মূলত বুলেটপ্রুফ গাড়ি তৈরি করা হয় গুলি ও বিস্ফোরণ থেকে যাত্রীদের সুরক্ষার জন্য। এর বডি আর্মার স্টিল ও কেভলার দিয়ে বানানো হয়, আর জানালা থাকে বহুস্তর বুলেটপ্রুফ গ্লাসের। টায়ারে থাকে রান-ফ্ল্যাট সিস্টেম, যাতে গুলি লাগলেও গাড়ি কিছু দূর চলতে পারে। ভিতরে থাকে অক্সিজেন সাপোর্ট, ফায়ার সেফটি ও জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম। এসব বৈশিষ্ট্য গাড়িটিকে করে তোলে আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য।
সাধারণত বুলেটপ্রুফ গাড়ি আমদানির অনুমতি শুধু রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা বিদেশি কূটনীতিকদের দেওয়া হয়। রাজনৈতিক দলের জন্য এমন অনুমতি খুবই বিরল।
বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) জানায়, এসব গাড়ি সাধারণত জাপান, কানাডা বা জার্মানি থেকে আসে এবং একটি বুলেটপ্রুফ গাড়ির খরচ শুল্কসহ প্রায় ২২ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) আশঙ্কা প্রকাশ করছে নির্বাচনী প্রচারে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হতে পারেন। এ কারণেই বুলেটপ্রুফ গাড়ির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে থাকা তারেক রহমান সম্প্রতি দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। অতীতে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনাও এই নিরাপত্তা উদ্বেগের পেছনে বড় কারণ।