বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি ডলার কিনেছে। বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বৃদ্ধি ও বাজার থেকে ডলার কেনার ফলে রিজার্ভ বেড়ে ৩১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১.৯৪ বিলিয়ন ডলারে, আর আইএমএফের মানদণ্ডে (বিপিএম৬) রিজার্ভ হয়েছে ২৭.১২ বিলিয়ন ডলার। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমে গিয়েছিল ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলারে।
ডলার কেনার বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যা বাজারে টাকার সরবরাহ বাড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এতে মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা চাপ পড়তে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, নির্ধারিত সীমা ছাড়ালে ব্যাংকগুলোকে ডলার বিক্রি করতে হয়। এখন প্রতি নিলামে ১৫–২০টি ব্যাংক ডলার বিক্রি করছে, ফলে রিজার্ভ বাড়ছে ও বাজার স্থিতিশীল থাকছে।
অর্থ পাচার রোধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপে হুন্ডি প্রবণতা কমে গেছে, রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১৬ শতাংশ। রপ্তানি আয়ও তিন মাসে বেড়েছে ৫.৬৪ শতাংশ।
বৈদেশিক ঋণ এখন ১১২.১৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ডলার দর দীর্ঘদিন ১২২ টাকায় স্থিত থাকার পর কমে এখন ১২১ টাকার কাছাকাছি। চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ২০৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার কিনেছে, যা রিজার্ভ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।


