গাজায় অবরোধ ভেঙে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় আটক হওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র অধিকারকর্মীদের মধ্যে সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ আরও ১৭১ জনকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েল। মুক্তি পাওয়া অধিকারকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, আটক অবস্থায় ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তারা ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
আল জাজিরা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার (৬ অক্টোবর) গ্রেটা থুনবার্গসহ আরও ১৭১ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মুক্তি পাওয়া অধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন, আটক অবস্থায় তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটু গেড়ে থাকতে বাধ্য করা হয়, মারধর করা হয় এবং তিন দিন পর্যন্ত খাবার দেওয়া হয়নি। অনেকে শৌচাগারের পানি পান করে বেঁচে ছিলেন।
গ্রিসে পৌঁছে গ্রেটা থুনবার্গ সাংবাদিকদের বলেন, ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে এবং সরকারগুলো তাদের ন্যূনতম দায়িত্বও পালন করছে না। তাদের উচিত ইসরায়েলের ওপর প্রকৃত চাপ তৈরি করা এবং সহযোগিতা বন্ধ করা। গাজায় গণহত্যা বন্ধে বিদ্যমান সব ব্যবস্থাই ব্যর্থ হয়েছে। যদি সরকারগুলো তাদের দায়িত্ব পালন করত, তাহলে এই নৌবহরের প্রয়োজন হতো না।
ইতালির অধিকারকর্মী চেজারে তোফানি বলেন, “আমাদের সঙ্গে ভয়ংকর ব্যবহার করা হয়েছে।” ইতালির ইসলামিক কমিউনিটিজ ইউনিয়নের সভাপতি ইয়াসিন লাফরাম জানান, “তারা আমাদের দিকে অস্ত্র তাক করে ভয় দেখিয়েছে।” সাংবাদিক সাভেরিও তোমাসির অভিযোগ, “আমাদের ওষুধ দেওয়া হয়নি, প্রহরীরা আমাদের নিয়ে হাসাহাসি করেছে এবং ‘বানরের মতো’ আচরণ করেছে।”
ইতালির সাংবাদিক লরেনজো ডি’আগোস্তিনো দাবি করেছেন, আটক অবস্থায় তার জিনিসপত্র ও অর্থ চুরি করেছে ইসরায়েলি সেনারা এবং বন্দিদের ভয় দেখাতে কুকুর ও বন্দুকের লেজার লাইট ব্যবহার করেছে। তুর্কি অধিকারকর্মী পাওলো ডি মোনটিস বলেন, “আমাদের তাকাতে দেওয়া হয়নি, মাথা নিচু করে থাকতে হতো। তাকালে মাথায় আঘাত করা হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটু গেড়ে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, ইসরায়েলের অবরোধ অমান্য করে ৪২টি নৌযানের এই বহর যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে চেয়েছিল। আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে গত বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিনে মোট ৪৭৯ জনকে আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী। এদের মধ্যে প্রথম তিন দিনে ১৭০ জন এবং সোমবার গ্রেটা থুনবার্গসহ আরও ১৭১ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।


