মালদ্বীপে নবনিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম দেশটির প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় প্রেসিডেন্ট প্যালেসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মালদ্বীপ-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।
হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলাম প্রেসিডেন্ট প্যালেসের রিপাবলিক স্কোয়ারে পৌঁছালে মালদ্বীপের জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী তাকে গার্ড অফ অনার প্রদান করে। চিফ ও ডেপুটি চিফ অফ প্রটোকল তাঁকে স্বাগত জানান। এর পরপরই আয়োজিত হয় মালদ্বীপের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক শোভাযাত্রা ‘বেরু ধুম্মারি’। এরপর হাইকমিশনার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে গিয়ে দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
গাজী হলে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার তাঁর পরিচয়পত্র প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর কাছে পেশ করেন। পরবর্তীতে দুই নেতার মধ্যে প্রায় ১৫ মিনিটব্যাপী সৌজন্য সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু বাংলাদেশের সহায়তায় গড়ে ওঠা মানবসম্পদ উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে মালদ্বীপের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপে বাংলাদেশি শ্রমশক্তির নিয়োগ এবং তাঁদের সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করায় মালদ্বীপ সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই শ্রমশক্তি উভয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
তিনি দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য সম্প্রসারণ, ট্রান্সশিপমেন্ট বৃদ্ধি ও অবকাঠামো সহযোগিতা নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
আলোচনায় প্রতিরক্ষা, কৃষি, শিক্ষা, এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বসহ বেশ কিছু সম্ভাবনাময় খাতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়। বিশেষভাবে মালদ্বীপের কৃষিখাতে বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তা প্রসারিত করার প্রস্তাব উঠে আসে।
হাইকমিশনার প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
ড. মো. নাজমুল ইসলাম একজন অভিজ্ঞ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও সংসদীয় কূটনীতিক। মালদ্বীপে নিয়োগের আগে তিনি তুরস্কের জাতীয় সংসদে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন সার্ভিস ইনস্টিটিউটে কূটনীতিক প্রশিক্ষক এবং আঙ্কারা ইলদিরিম বায়েজিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তত্ত্ব, সফট পাওয়ার এবং কৌশলগত গবেষণায় তাঁর পাণ্ডিত্য মালদ্বীপ-বাংলাদেশ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ ১৯৭৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে শিক্ষার্থী আদান-প্রদান, প্রবাসী শ্রমিক, পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার হয়েছে।

