টানা সরকারি ছুটি ও দুর্গাপূজা মিলিয়ে দীর্ঘ অবকাশে ভ্রমণপিপাসুদের ঢল নেমেছে কক্সবাজারে। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক সমুদ্র সৈকত ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানে ভিড় করছেন।
আগেই হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউসের সব রুম বুক হয়ে যাওয়ায় অনেকেই আবাসন সংকটে পড়েছেন। পরিবহনেও মিলছে না সহজে টিকিট।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মাহমুদুল ইসলাম জানান, অনেক আগে থেকেই পরিকল্পনা করলেও শেষ পর্যন্ত কষ্ট করে নন-এসি বাসের টিকিট পেয়েছেন। তবে পরিবার নিয়ে আনন্দঘন সময় কাটিয়েছেন তিনি।
আরেক পর্যটক ফখরুল আলম বলেন, রুম পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তবে ঢাকার গরম থেকে মুক্তি পাওয়ায় কক্সবাজারে আসতে দারুণ লেগেছে।
সিলেটের খোরশেদ আলম জানান, পরিবার নিয়ে ইনানিতে ভালো সময় কাটিয়েছেন। বৃষ্টিকে তিনি অতিরিক্ত আনন্দ হিসেবে দেখেছেন। ঢাকার চাকুরিজীবী মোহনা সেন বলেন, সাগরের ঢেউ আর বৃষ্টিতে ভিজে দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে।
কক্সবাজারের সৈকত ছাড়াও ইনানী, হিমছড়ি, পাটোয়ারটেক, টেকনাফ, সাফারি পার্ক, মহেশখালী আদিনাথ মন্দির ও রামুর বৌদ্ধ মন্দিরসহ নানা পর্যটন স্পটে ভ্রমণ করছেন আগত পর্যটকরা।
খুলনা থেকে আসা শরিফা ও রহমান তারেক দম্পতি জানান, সমুদ্রের বড় ঢেউ কাছ থেকে দেখে প্রকৃতিকে নতুনভাবে অনুভব করেছেন। তবে কিছু হোটেলে খাবারের দাম বেশি বলে মন্তব্য করেন তারা।
হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, কয়েকদিন আগে থেকেই রুম বুকিং শেষ হয়ে গেছে। আগামী চার তারিখ পর্যন্ত কোথাও রুম খালি নেই। মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করা হয়। হোটেল কক্স টুডের জিএম আবু তালেব জানান, ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সব রুম পূর্ণ।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে বলে জানান ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, পর্যটকদের হয়রানি ঠেকাতে তিনটি বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে।
এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকবে এবং মাঝারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।


