প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেছেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন নিয়ে আলাপ হয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৯২ হাজার ৫০০ জন সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। তার মধ্যে ৯০ হাজার সেনা সদস্য, বাকিটা নৌবাহিনী।
সেনাবাহিনী বাংলাদেশের প্রত্যেক উপজেলায় এক কোম্পানি করে মোতায়েন থাকবে। এছাড়া নির্বাচনের ৭২ ঘণ্টা আগে এবং নির্বাচনের পরে উদ্ভূত পরিস্থিতি স্থানীয় জনগণ, সেচ্ছাসেবক সম্পৃক্ত করে কীভাবে সামলানো যায়-সেই বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়েছে।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান তিনি।
এর আগে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
প্রেসসচিব বলেন, গত তিনটি নির্বাচনে যে কোনও পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন-এমন কাউকে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দায়িত্ব না দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়াও সর্বোচ্চ ফিট কমকর্তাকে দেয়া হবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র।
তিনি বলেন, নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে হবে। তারিখ ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।
প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে প্রেস সচিব জানান, নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য দেশের ভেতর এবং বাইরে থেকে খুবই পরিকল্পিতভাবে নানাভাবে অপপ্রচার চালানো হবে। সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছন প্রধান উপদেষ্টা। এআই দিয়ে ছবি ভিডিও তৈরি করে ছেড়ে দেওয়া হবে। এটাকে সামাল দিতেই হবে।
তিনি আরও বলেন, বাইরে থেকে ভেতর থেকে বড় শক্তি নিয়ে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবে। হঠাৎ করে আক্রমণ চলে আসতে পারে, এই নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং হবে। যত ঝড় আসুক না কেন আমাদের অতিক্রম করতে হবে।
শফিকুল আলম জানান, প্রশিক্ষণ বিষয়েও আলাপ হয়েছে। গতকাল বডি অর্ন ক্যামেরা কেনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। সেটা কীভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, সবচেয়ে বেশি মোতায়েন থাকবে আনসার সদস্য, তাদেরও প্রশিক্ষণ হচ্ছে, এই প্রশিক্ষণ যাতে আরও কার্যকর প্রশিক্ষণ হয়, প্রশিক্ষণের ভিডিওগুলো ইসি এবং রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচার করা হয়; সেই বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা বারবার বলেছেন। এই সম্পর্কিত সব ব্যবস্থা ১৫ নভেম্বরের মধ্যে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।


