বাংলাফ্লো প্রতিনিধি
ঢাকা: রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থার সংকট এবং জ্বালানি ঘাটতির কারণে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের তৈরি পোশাক খাত। বিজিএমইএর তথ্যমতে, গত এক বছরে ২৫৮টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং কর্মহীন হয়েছেন এক লাখেরও বেশি শ্রমিক। এমন পরিস্থিতিতে বক্তারা বলছেন, সঠিক কৌশল, শ্রমিক কেন্দ্রিক নীতি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করলেই কেবল বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী, প্রতিযোগিতামূলক এবং মানবিক গার্মেন্টস শিল্প গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এশিয়া ফ্লোর ওয়েজ অ্যালায়েন্স আয়োজিত এক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সংলাপে বক্তারা বলেন, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকলেও শ্রমিকদের মজুরি এখনো জীবনযাত্রা উপযোগী পর্যায়ে পৌঁছায়নি। শিল্পের মোট মুনাফা ও শ্রমিকদের প্রাপ্ত মজুরির মধ্যে স্পষ্ট বৈষম্য বিদ্যমান। উৎপাদন ব্যয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার চাপ প্রায়ই শ্রমিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, যা তাদের জীবনমান উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে। বর্তমানে এই খাতে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ শ্রমিক কর্মরত, যার ৬০ শতাংশই নারী। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ এখনো সীমিত।
বক্তারা উল্লেখ করেন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন এবং শ্রম পরিস্থিতির দুর্বলতা শিল্পটিকে জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। তাই প্রযুক্তি, পরিবেশ এবং শ্রম—এই তিন ক্ষেত্রকে আলাদা না দেখে সমন্বিতভাবে বিশ্লেষণ করা সময়ের দাবি।
সংলাপে সংগঠনের আহ্বায়ক কাজী রুহুল আমিন, সদস্য সচিব সুলতানা বেগম এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ঢাকা মহানগরের সভাপতি আবুল হোসাইন উপস্থিত ছিলেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, একটি সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত শ্রমিক কেন্দ্রিক কৌশলই পারে এই শিল্পকে মানবিক ও টেকসই করতে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






