ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ২১০তম এবং সর্বশেষ স্থানে থাকা দেশ সান মারিনো। শেষ ২০ বছরে তারা জিতেছে কেবল দুই ম্যাচ, দুটিই লিচেনস্টেইনের বিপক্ষে। উয়েফা নেশনস লিগের ওই দুই জয় এখন সান মারিনোর সামনে খুলে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় হতে চলা ২০২৬ বিশ্বকাপের দুয়ার।
বিশ্বকাপে খেলার গাণিতিক সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে আগামী ১৯ নভেম্বর ‘এইচ’ গ্রুপের দল রোমানিয়ার আতিথেয়তা নেবে সান মারিনো। সেই ম্যাচে আবার হারতে হবে তাদের। ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইয়ের নিয়ম অনুযায়ী, ইউরোপীয় অঞ্চল থেকে ১৬টি দল বিশ্বকাপে জায়গা করবে। প্রথমপর্বে ১২টি গ্রুপ থেকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দলগুলো সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা করে নেবে। বাকি চার দল জায়গা করবে বাছাইয়ের দ্বিতীয় পর্ব- প্লে অফ খেলে।
প্রথমপর্বের ১২ গ্রুপের রানার্সআপ দল খেলবে প্লে-অফে। প্রতিটি গ্রুপের রানার্সআপদের সঙ্গে প্লে-অফে যোগ দেবে সেই চারটি দল, যারা নেশনস লিগে নিজেদের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কিন্তু বাছাইপর্বে নিজেদের গ্রুপে শীর্ষ দুইয়ে থাকতে পারেনি।
ইউরোপীয় অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ‘এইচ’ গ্রুপে এপর্যন্ত সাত ম্যাচ খেলে সব হেরেছে সান মারিনো। হজম করেছে ৩২ গোল। গ্রুপে সবার নিচে তারা। ৬ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে আছে রোমানিয়া।
সরাসরি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপে যাওয়ার সুযোগ নেই সান মারিনোর। তবে সবশেষ নেশনস লিগে ‘ডি-১’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। সেটির সৌজন্যেই বিশ্বকাপের স্বপ্ন বেঁচে আছে তাদের। তাদের আগে ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাইপর্বের দ্বিতীয় পর্ব- ‘প্লে অফ’ নিশ্চিত করতে হবে।
এজন্য গ্রুপের আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী রোমানিয়াকে পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ের মধ্যে থাকতে হবে। আর সেটি সম্ভব হতে পারে- আগামী ১৬ নভেম্বর বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে যদি রোমানিয়া না হারে এবং দুদিন পর সান মারিনো যদি তাদের কাছে অনেক গোলে হেরে যায়।
রোমানিয়াও নেশনস লিগে নিজেদের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন দল ছিল। তাদের পয়েন্ট ছিল আরেক গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন সান মারিনোর চেয়ে বেশি। রোমানিয়া যদি বিশ্বকাপ বাছাইয়ে পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ের বাইরে চলে যায়, তাহলে বিশ্বকাপের বাকি স্বপ্নটুকু শেষ হয়ে যাবে সান মারিনোর। রোমানিয়ার বিপক্ষে যদি মারিনো জেতে বা ড্র করে, তাহলে রোমানিয়া দুইয়ের বাইরে চলে যাবে। তাতে নিজেদের পায়ে কুড়াল মারার মতোই হতে পারে।


