আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: মিয়ানমারের জান্তা সরকার ভিন্নমত দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ব্যক্তিগত ফেসবুক চ্যাটে আসন্ন নির্বাচনবিরোধী বার্তা পাঠানোর অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) দেশটির সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম খাইং সোয়ে (৫৮)। তিনি ইয়াঙ্গুনের নিকটবর্তী বোগিওক গ্রামের বাসিন্দা। জান্তার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খাইং সোয়ে তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে মেসেঞ্জারে নির্বাচনবিরোধী বার্তা পাঠিয়েছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত করা এবং জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করা। তবে কর্তৃপক্ষ কীভাবে ব্যক্তিগত মেসেঞ্জার আলাপচারিতায় প্রবেশ করেছে, সে বিষয়ে বিবৃতিতে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
ডিসেম্বরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের আগে জান্তা সরকার ব্যাপক নতুন আইন প্রণয়ন করেছে। এই আইনের আওতায় নির্বাচন নিয়ে প্রতিবাদ বা সমালোচনার শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। খাইং সোয়েকে এই নতুন আইনের আওতায়ই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুধু খাইং সোয়ে নন, নির্বাচনবিরোধী ফেসবুক পোস্ট এবং নির্বাচনী বিলবোর্ড নষ্ট করার অভিযোগে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আরও ১১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির পরিসংখ্যান মতে, নির্বাচন ব্যাহত করার অভিযোগে জান্তা সরকার শতাধিক মামলা দায়ের করেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের মুখপাত্র জেরেমি লরেন্স সতর্ক করে বলেছেন, নির্বাচনের আগে ভিন্নমতাবলম্বীদের শনাক্ত করতে জান্তা সরকার ব্যাপক ইলেকট্রনিক নজরদারি জোরদার করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করছে, জান্তা সরকার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা খর্ব করছে।
২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে সামরিক শাসন চলছে। জান্তা সরকার দাবি করছে, ডিসেম্বরের নির্বাচন দেশকে গণতন্ত্রের পথে ফেরাবে। তবে অং সান সু চির দল এনএলডিকে নিষিদ্ধ করায় এবং জান্তাবিরোধী শক্তিসমূহকে বাদ দেওয়ায় সমালোচকরা এই নির্বাচনকে ‘নাটক’ বলে অভিহিত করেছেন। আগামী ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া এই নির্বাচনে এনএলডির কোনো প্রতীক থাকছে না।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






